Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

বিশ্বের রহস্যময় ঘটনাযার সংজ্ঞা আজও মেলেনি ! চতুর্থ পর্ব । "Mowdud's World"



বিশ্বের রহস্যময় ঘটনাযার সংজ্ঞা আজও মেলেনি ! 

                                                        (৪র্থ পর্ব)


বিশ্বের রহস্যময় ঘটনাযার সংজ্ঞা আজও মেলেনি !  চতুর্থ পর্ব ।  "Mowdud's World"




বিশ্বের রহস্যময় ঘটনা : পুরো বিশ্বটাই যেন রহস্যের আধার। এর মধ্যে কিছু বস্তুর রহস্য উদঘাটন করা গেলেও বিশ্বে এখনও অনেক বস্তু রয়েছে যার রহস্য উদ্ধার করা যায়নি। বিজ্ঞানের এই অভাবনীয় উন্নতি ও উৎকর্ষের যুগেও বিশ্বের কোন কোন স্থানে এখনো এমন রহস্যপূর্ণ যে, এ রহস্যের কোন কিনারা আজও মেলেনি। এসব স্থান কেনো এতোই অদ্ভূত যে বিজ্ঞানের পক্ষে তা আজও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি । এছাড়াও বিশ্বে আরো বহু অমীমাংসিত রহস্য রয়েছে যার সমাধান সম্ভব হয়নি হাজার বছরেও ।



১। ১৯৬৯ সালে মানুষের চাঁদে পদার্পন বিশ্বের রহস্যময় ঘটনা :


এটি বহু পুরানো একটি আলোচনা। সালটি ছিল ১৯৬৯ এটি ছিল পৃথিবীর জন্য একটি সপ্নের বছর। সপ্নকে সত্য করার বছর। এই দিন পৃথিবীর মানুষেরা প্রথম চাঁদে তার পদধূলী রাখে। চাঁদ কে জয় করে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে মানুষ। তখন অনেকে এর বিরোধিতা করেন। তারা বলেন ১৯৬৯ সালে মানুষ চাঁদকে জয় করতে সক্ষম হয়নি। তারা কারন হিসাবে বলে তখনকার যেসকল প্রযুক্তি ছিল তা দিয়ে চাঁদে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব। তারা মনে করেন মার্কিনীরা তখন সম্পূর্ণ ঘটনাটি শুটিং করে মানুষদের সামনে তুলে ধরেন এবং তাদের এও ধারনা যে স্ট্যানলি কুবরিক ছিলেন এর পরিচালক।



২। প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড বিশ্বের রহস্যময় ঘটনা :


আরেকটি সব থেকে বিতর্কিত ঘটনা হল প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড। ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়না এবং তার প্রেমিক ফায়াদ এক ভয়াভহ গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের নির্দেশে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্হা MI6 এই দূর্ঘটনার আড়ালে এই ভয়াভহ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছিলো। অনেকে মনে করেন প্রিন্সেস ডায়নার তুমুল জনপ্রিয়তা, সত্যবাদিতা এবং রাজপরিবারের সমালোচনা ব্রিটিশ রাজ পরিবারকে বিব্রত এবং অস্বস্তিকর অবস্হায় ফেলে দিয়েছিলো। আবার ফায়াদের সাথে প্রিন্সেস ডায়নার সম্পর্ক ব্রিটিশ রাজপরিবার এবং ইংল্যান্ডের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার এক বিশাল ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছিলো, তাই হয়তো এই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছিল।



৩। ২০০৫ সালের ৭ই জুলাই, লন্ডনের সিরিজ বোমা বিস্ফোরন:


২০০৫ সালের ৭ই জুলাই শুধু মাত্র ইংল্যান্ডের জন্য নয় তথা সম্পূর্ণ বিশ্ববাসীর জন্য এটি ছিল খুবই বেদনায়ক ও ভয়াবহ একটি দিন। ভূগর্ভস্হ ট্রেনস্টেশনে পরপর কয়েকটি বিশাল ভয়াবহ সিরিজ বোমা বিস্ফোরনে সেদিন প্রাণ হারাতে হয়েছিলো অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে। বিভিন্ন জঙ্গি সংঘটনকে দায়ী করা হয় এই হামলার জন্য। হামলাকারীদের বিভিন্ন ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। আসলে কে করেছিল এই হামলাটি? এটি কি তাহলে ছিলো ক্ষমতাশালী দেশগুলোর সাজানো কোন নাটক? হামলাকারীর ছবিটি দেখুন। এর নাম Mohammed Sidique Khan সে এই ঘটনার সুইসাইড হামলার একজন আসামী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ছবিটি কোনভাবেই আসল হতে পারে না। জায়গাসহ সব ঠিক আছে। কিন্তু খুব সূক্ষভাবে লক্ষ্য করলে এবং পরীক্ষা করলে খেয়াল করা যাবে ছবির লোকটিকে আলাদা করে ছবিতে বসানো হয়েছে। পুরো ছবিটিই নকল। আবার অনেকে বলেন বোমগুলো হামলাকারীদের ব্যাকপ্যাক থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি। এগুলো আগে থেকেই সেখানে রাখা ছিলো। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকানদের সাথে যুদ্ধে নিজেদের অংশগ্রহনকে দেশবাসীর বৈধতা দেবার জন্য এই হামলা ঘটানো হয়েছিলো বলে অনেকের ধারণা।



৪। ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি:


২০০৪ সাল এটি ছিল এশিয়ার মানুষদের জন্য খুব বেদনাদায়ক একটি দিন। এশিয়ার সমুদ্ররের পাশ্ববর্তী দেশগুলোর মানুষেরা এদিন প্রকৃতির এক ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর খেলার বাস্তব রূপ দেখতে পায়। বিশাল আকারের এই প্রকৃতিক দুর্যোগ সুনামী আছড়ে পড়ে সমুদ্র পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি দেশে। লাখ লাখ মানুষ মারা যায় এই নিষ্ঠুর সুনামীতে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলংকায় এই দুর্যোগে হতাহতের সংখ্যা ছিলো সবচেয়ে বেশী। বিশ্ববাসী কখনোই প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ রূপ ভুলতে পারবে না। কিন্তু মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সংবাদপত্রের দাবী এর পিছনে বিশ্বের শক্তিশালী বেশ কয়েকটি দেশের হাত রয়েছে। গোপনীয় পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালাতে গিয়ে দূর্ঘটনাক্রমে বিস্ফোরণে এই সুনামীর সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করেন অনেকে।



৫। HIV ভাইরাস ল্যাবটেরীতে গবেষণা করে বানানো হয়েছিলো:


AIDS হছে একটি মরণব্যাধি রোগ। যার চিকিৎসার উপায় এবং ঔষুধ এখন পর্যন্ত গবেষকরা আবিষ্কার করতে পারেনি। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে মরণব্যাধী রোগ হোল এটি। প্রতিবছর বিশেষ করে আফ্রিকার প্রায় প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে। Dr William Campbell Douglass প্রথমে একটি থিওরি দেন, পরে অনেক চিকিৎসক তাকে সমর্থন জানান। উনার মতে HIV ভাইরাসটি ১৯৭৪ সালে WHO এর পরিকল্পনা অনুযায়ী ল্যাবটেরীতে গবেষণা করে বানানো হয়েছিলো। বিশ্ব জনসংখ্যা কমানোর জন্য এটি বানানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে এই ভাইরাসটি সম্পূর্ণ আফ্রিকায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আরেকদল বলে CIA অথবা KGB এই দুটির সংস্থার যেকোন একটি নিজেদের স্বার্থের জন্য এই ভাইরাসটি বানিয়েছিলো। কিন্তু কোন একটি দূর্ঘটনার কারনে সম্পূর্ণ পৃথিবীতে এটি ছড়িয়ে পড়ে।



৬। Fluoride প্রয়োগকে বাঁধা দিচ্ছে না WHO:


দাতের ক্ষয়রোধ করার জন্য পানযোগ্য পানিতে Fluoride মেশানো হয় এটা আমরা সবাই কম বেশি জানি। আবার বৈজ্ঞানিকভাবেই এটি প্রমাণিত যে এই Fluoride এর অনেক খারাপ দিকও আছে। এর বিভিন্ন রকম পার্শ্বপ্রতিকিয়া মানুষের শরীরকে বিভিন্নভাবে আক্রান্ত করে। একদল গবেষক এর ধারণা এসব জানা সত্ত্বেও WHO এই Fluoride প্রয়োগকে বাঁধা দিচ্ছে না। কারণ এর পিছনে রয়েছে বিশাল এক ব্যবসা। এর পিছনে রয়েছে বিশাল বিশাল সব ঔষুধ কোম্পানী। কারন মানুষ অসুস্হ থাকলেই তো এদের লাভ। আর মানুষ যদি অসুস্হ না থাকে তাহলে এত ঔষুধ কোম্পানী চলবে কি করে ??



৭। আসলেই কি Elvis Presley তার মৃত্যু নিয়ে নাটক করেছিল:


এক কালের বিখ্যাত ও তুমুল জনপ্রিয় গায়ক Elvis Presley এর নাম শুনেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে। বিশ্বজুড়ে তার রয়েছে অগণিত ভক্ত। এখনও মানুষ তার গান শুনে যায় এবং পছন্দ করে। বিখ্যাত এই গায়ক তরুণ বয়সেই জনপ্রিয়তার এক বিশাল রাজ্যে প্রবেশ করে। ১৯৭৭ সালে হঠাৎ করেই এই মহান গায়ক মারা যান। একদলের দাবী সেই সময় নাকি আসলেই Elvis মারা যাননি। তিনি নিজের মৃত্যু ঘটিয়ে সবার থেকে আড়ালে চলে যান। অনেকে নাকি এরপরও তাকে দেখেছেন! তার আসল মৃত্যু নাকি হয় ১৯৯০ সালে। আসলেই কি Elvis Presley তার মৃত্যু নিয়ে নাটক করেছিল?



৮। ২০১২ রহস্য:


সবথেকে বড় ঘটনাটি ঘটে ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই গুজব নিয়ে। তখন অনেকে অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে এই ব্যাপারটিকে। কিন্তু এর পক্ষের লোকর অভাব ও কিন্তু কম ছিল না। প্রচুর মানুষ বিশ্বাস করেছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে এই পৃথিবীর বুকে। মায়ানদের ক্যালেন্ডারের সমাপ্তি এবং নষ্ট্রাডমাস এর কিছু ভবিষ্যৎবাণীর কারণে আগুন এর এই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র বিশ্বে। আমি নিজেও বিশ্বাস করেছিলাম হয়তো ধ্বংস হবে না কিন্তু বিশাল এক পরিবর্তন আসবে পৃথিবীর উপর এই সময়ে। কিন্তু সব কল্পনা, ভবিষ্যৎবাণীকে মিথ্যা প্রমান করে পৃথিবী আজও চিরজীবী হয়ে রয়েছে।



৯। সেন্ট ক্রুজের রহস্য স্থান(মিস্ট্রি স্পট)


সেন্টার ক্রুজের মিস্ট্রি স্পট বা রহস্য স্থান হল ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড ফরেস্টের ভিতর ১৫০ ফুট প্রসস্ত এমন একটি জায়গা যেখানে পদার্থবিদ্যা এবং অভিকর্ষের কোন সুত্র খাটে না। ১৯৩৯ সালে আবিষ্কৃত এই স্থানটি এখনও এক বিশ্ময়।

Post a Comment

0 Comments